Published : 03 Mar 2026, 11:07 AM
বৃষ্টিতেও স্বস্তি নেই ঢাকার বাতাসে। গতকাল সামান্য বৃষ্টি হলেও দূষণ কমেনি। আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বের ১২২টি শহরের মধ্যে ঢাকা সবচেয়ে দূষিত। বায়ুর মান ২৪০, যা ‘অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর’ বলে বিবেচিত। ঢাকার ৯টি স্থান আজ দূষণের তীব্রতায় বিপর্যস্ত, যার মধ্যে একটি স্থানে দূষণ ৩০০ ছাড়িয়েছে। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক আইকিউএয়ার এই উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি নিয়মিত বায়ুদূষণের হালনাগাদ তথ্য জানায় এবং লাইভ সূচকের মাধ্যমে বাতাস কতটা দূষিত, সে বিষয়ে সতর্ক করে। দূষণের মাত্রা ২০০ অতিক্রম করলে তাকে ‘অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০০ ছাড়িয়ে গেলে ‘দুর্যোগপূর্ণ’ বলা হয়। ঢাকার বাতাস দ্রুত বিষাক্ত হয়ে উঠছে।
গত ফেব্রুয়ারি মাসেও প্রায় পুরো সময় ধরে ঢাকা ছিল দূষিত শহরের শীর্ষে। এই মাসেও সেই ধারা অব্যাহত রয়েছে। ১১৪ দিন পর গতকাল ঢাকায় বৃষ্টি হলেও, তা দূষণ কমাতে তেমন কোনো প্রভাব ফেলেনি, মাত্র ৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। সাধারণত বৃষ্টি বায়ু দূষণ কমাতে সাহায্য করে, কিন্তু গতকাল বৃষ্টির পরও বিকেল ৫টায় ঢাকা ছিল দূষিত শহরের তালিকায় প্রথম স্থানে। রাতেও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি, যদিও স্কোর ২০০-এর নিচে নেমেছিল। বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালে বায়ুদূষণের কারণে দেশে প্রায় দেড় লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যা মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ৮ শতাংশ ক্ষতি করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন সময়ে সরকার নানা পদক্ষেপ নিয়েছে, কিন্তু তাতে আশানুরূপ ফল পাওয়া যায়নি। নতুন সরকার দূষণ রোধে কী কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারে, তা এখন দেখার বিষয়। রাজধানীর নয় স্থানে আজ ভয়ানক দূষণ রেকর্ড করা হয়েছে।
এর মধ্যে গুলশানের বে’জ এইজ ওয়াটারে দূষণের মাত্রা সবচেয়ে বেশি, স্কোর ৩৭৪। এরপর গুলশান লেক পার্ক (২৮০), বারিধারা পার্ক (২৭৪), সাগুফতা (২৭০), দক্ষিণ পল্লবী (২৬২), উত্তর বাড্ডা, আবদুল্লাহবাগ (২৫০), গ্রেস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল (২৪০), বেচারাম দেউড়ি (২১০) ও শান্তা ফোরাম (২০৭)। দেশের অন্যান্য স্থানেও বায়ুদূষণ বাড়ছে, বিশেষ করে ঢাকার বাইরের এলাকাগুলোতে দূষণের মাত্রা অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে। তবে দূষণ নিয়ন্ত্রণে গৃহীত বেশিরভাগ পদক্ষেপই ঢাকাকেন্দ্রিক, যা আশানুরূপ ফল দিচ্ছে না। আইকিউএয়ারের পরামর্শ অনুযায়ী, আজ ঢাকার বায়ুর মান এতটাই খারাপ যে বাইরে বের হলে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে। বাড়ির বাইরে ব্যায়াম করা এড়িয়ে যাওয়া উচিত এবং জানালাগুলো বন্ধ করে রাখা দরকার।।
ঈদের ছুটিতে লালবাগ কেল্লায় জনস্রোত, আনন্দে মুখরিত ঐতিহাসিক প্রাঙ্গণ